ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বুড়িচং সরকারি মৎস্য হ্যাচারী যেন ভূতুড়ে বাড়ি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 19, 2025 ইং
বুড়িচং সরকারি মৎস্য হ্যাচারী যেন ভূতুড়ে বাড়ি ছবির ক্যাপশন: বুড়িচং সরকারি মৎস্য হ্যাচারী যেন ভূতুড়ে বাড়ি
ad728

মো. শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মৎস্যচাষীদের পোনা সরবরাহের জন্য ৩.৩৩ হেক্টর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত সরকারি মৎস্য হ্যাচারীটি এখন কার্যত এক ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। ৮টি পুকুর, ১.০৪ হেক্টর পোনা উৎপাদনের জমি এবং সরকারি বিপুল বিনিয়োগ থাকা সত্ত্বেও এখানে নেই কোনো বাস্তবিক উৎপাদন কার্যক্রম—সব কিছুই চলছে কাগজে-কলমে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হ্যাচারীর খামার ব্যবস্থাপক শামছি আরা ফেরদৌসী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটি অচল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে পুকুরগুলো ফাঁকা পড়ে আছে, পোনা উৎপাদনের হাউজে দেখা যায় রান্নার সরঞ্জামাদি ও গৃহস্থালি ব্যবহারের জিনিসপত্র। স্থানীয়রা বলছেন, বছরের পর বছর এখানে কোনো উৎপাদন না হলেও শুধু কাগজে-কলমে লাখ লাখ টাকার হিসাব তৈরি হচ্ছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, হ্যাচারীর মূল ভবনটি প্রায় পরিত্যক্ত। অফিসকক্ষের এক পাশে রাখা রয়েছে একটি বিছানা, অন্য পাশে ধুলো পড়া চেয়ার-টেবিল। আশপাশের এলাকাটি নির্জন, যেন বহু বছর ধরে কেউ নিয়মিত কাজ করছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ—“প্রতিবছর শুধু বিশেষ দিবস বা মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে বাইরের কোনো জায়গা থেকে পোনা কিনে এনে বিতরণ করা হয়। অথচ সেই পোনাকে নিজেদের উৎপাদন দেখিয়ে সরকারি আয় হিসেবে হিসাব তৈরি করা হয়।”

অফিস সূত্রের তথ্যমতে,২০২২–২৩ অর্থবছরে ২ লাখ ৯০ হাজার পোনা উৎপাদন ও বিক্রয়ের দেখানো হয়েছে, আয় দেখানো হয়েছে ৩ লক্ষ ৯৬ হাজার ৮০০ টাকা।২০২৩–২৪ অর্থবছরে ২ লাখ ৯৩ হাজার পোনা বিক্রয় দেখানো হয়েছে, আয় ৪ লক্ষ ২ হাজার ১০০ টাকা।২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৮৬৪.৬০ কেজি পোনা বিক্রয়ের দাবি করা হয়েছে, আয় ৪ লক্ষ ৬ হাজার ৩০০ টাকা।

কিন্তু স্থানীয়রা বলছেন—এই সংখ্যাগুলো “কাগজে উৎপাদন, মাঠে শূন্যতা”।

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম মাহাদী বলেন,“এখানে কোনো পোনা উৎপাদন হয় না। কাগজে দেখানো হয় আর বাইরে থেকে পোনা কিনে এনে বিতরণ করা হয়। আমি তাদের কাছ থেকে পোনা নিয়েছিলাম—যার মধ্যে বড় মাছও ছিল। আমার পুকুরে ছাড়ার পর অনেক মাছ মরে যায়। এটা স্পষ্ট প্রতারণা।”

অভিযোগের বিষয়ে খামার ব্যবস্থাপক শামছি আরা ফেরদৌসী বলেন,“বিগত দুই অর্থবছর জনবল সংকট ছিল। তাই অন্য উপজেলা থেকে জনবল এনে উৎপাদন করেছি। এখন জনবল আছে, নিয়মিত উৎপাদন চলছে। তবে কার্যালয়টি পরিত্যক্ত ঘোষিত হওয়ায় গার্ডের সেডে অফিস করতে হচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং বদলির আবেদন করেছি।”

তবে স্থানীয়দের মতে, শুধু জনবল সংকট নয়—দায়িত্বে অবহেলা, তদারকির অভাব ও দুর্নীতির ছায়াই হ্যাচারীটিকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছে। কোটি টাকার সরকারি সম্পদ এখন প্রায় অচল, পুকুরগুলো জলাশয়ের বদলে আগাছায় ভরে গেছে, আর উৎপাদনের জায়গায় নেমে এসেছে অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের কালো ছায়া।

মৎস্যচাষীরা বলছেন, “বুড়িচংয়ের সরকারি মৎস্য হ্যাচারীটি যদি কার্যকরভাবে চালু করা যায়, তবে স্থানীয়ভাবে বিপুল পোনা উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে শুধু বেকার যুবকরাই নয়, স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।”

সরকারি অর্থে নির্মিত এই মৎস্য হ্যাচারীটি যেন নামমাত্র প্রতিষ্ঠান না থেকে প্রকৃত অর্থে কার্যকর হয়—সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : মোঃ শাহজাহান বাশার

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শ্বশুরবাড়িতে বিষপানে কুড়িগ্রামে জামাইয়ের মৃত্যু

শ্বশুরবাড়িতে বিষপানে কুড়িগ্রামে জামাইয়ের মৃত্যু