ঢাকা | বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণ : গ্রামীণ ব্যাংক, উপদেষ্টার প্রতিষ্ঠান ও ধানমন্ডিতে আতঙ্ক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 10, 2025 ইং
রাজধানীতে ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণ : গ্রামীণ ব্যাংক, উপদেষ্টার প্রতিষ্ঠান ও ধানমন্ডিতে আতঙ্ক ছবির ক্যাপশন: রাজধানীতে ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণ : গ্রামীণ ব্যাংক, উপদেষ্টার প্রতিষ্ঠান ও ধানমন্ডিতে আতঙ্ক
ad728

সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫ | ঢাকা
মো. শাহজাহান বাশার

রাজধানী ঢাকায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তিনটি স্থানে অন্তত সাতটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার গভীর রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি এলাকায় এসব বিস্ফোরণ ঘটে। যদিও এসব ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি, তবে নগরজুড়ে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পুলিশ বলছে, ঘটনাগুলোর ধরন একই রকম এবং এটি পরিকল্পিত নাশকতা হতে পারে। হামলাকারীদের শনাক্তে একাধিক গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে।

রোববার রাত পৌনে ৪টার দিকে মিরপুরে অবস্থিত গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনের সড়কে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।

মিরপুর মডেল থানার ওসি সাজ্জাদ রোমান জানান, “রাত পৌনে ৪টার দিকে গ্রামীণ ব্যাংকের সামনের রাস্তায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি এবং কাউকে আটকও করা যায়নি।”

ঘটনার পরপরই পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকা ঘিরে ফেলে এবং আলামত সংগ্রহ করে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও সকাল নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এর কয়েক ঘণ্টা পর সোমবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক এসে একটি ককটেল প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এবং আরেকটি রাস্তার ওপর ছুড়ে মারে। এতে বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং স্থানীয়দের মধ্যে চরম ভীতির পরিবেশ তৈরি হয়।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি কাজী রফিক আহমেদ বলেন, “উপদেষ্টার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে দুষ্কৃতিকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনাস্থলে আমাদের টিম কাজ করছে। হামলাকারীদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।”

মোহাম্মদপুরের ঘটনার পরপরই সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে ধানমন্ডি এলাকায়ও একই ধরনের ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।

ধানমন্ডি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান বলেন, “মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনে দুটি এবং রাপা প্লাজার উল্টোপাশে মাইডাস সেন্টারের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। কোনো হতাহত নেই, তবে আলামত সংগ্রহ ও আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

ধানমন্ডি জোনের এডিসি জিসানুল হক জানান, “দুই আরোহী মোটরসাইকেল থেকে ককটেল ছুড়ে মারে। পুলিশ তাড়া করলে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। আমরা তাদের শনাক্তে প্রযুক্তিগত সহায়তা নিচ্ছি।”

ধারাবাহিক এই বিস্ফোরণগুলোর পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একাধিক ইউনিটকে রাতদিন টহল ও চেকপোস্টে সতর্ক অবস্থানে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের মতে, তিনটি ঘটনায় একই ধরনের কৌশল ও সময়ের ব্যবধান থাকার কারণে “এটি একটি সমন্বিত পরিকল্পনা” হতে পারে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত শনিবার (৮ নভেম্বর) মোহাম্মদপুরে সেন্ট যোসেফ উচ্চবিদ্যালয়ের ভেতরে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এরও আগে শুক্রবার কাকরাইলে সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রাল চার্চে হাতবোমা হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে একের পর এক বিস্ফোরণকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজনৈতিক বা উগ্রবাদী তৎপরতার সম্ভাবনা হিসেবে তদন্ত করছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“একই প্যাটার্নে এই হামলাগুলো ঘটছে—মোটরসাইকেলে এসে দ্রুত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালানো। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল টাওয়ার ডেটা বিশ্লেষণ করছি। খুব শিগগিরই দুষ্কৃতিকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”


নিউজটি পোস্ট করেছেন : মোঃ শাহজাহান বাশার

কমেন্ট বক্স
কুড়িগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় পণ্যসহ গ্রেফতার ১

কুড়িগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় পণ্যসহ গ্রেফতার ১