মোঃ শাহজাহান বাশার
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
গৌরবময় ৫০ বছরের পথচলা উদযাপনে এক অনন্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক’র সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব। ২ নভেম্বর ২০২৫, শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের বিখ্যাত অনুষ্ঠানস্থল ট্যারেস অন দ্য পার্ক-এ আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সাংবাদিক, সাহিত্যিকসহ হাজারো প্রবাসী অংশ নেন।
উৎসবমুখর পরিবেশে সাজানো এই সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ঐক্য, সংস্কৃতি ও অর্জনের ৫০ বছরের সাফল্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সম্মাননা পর্ব। এ পর্বে শিক্ষা, সমাজসেবা ও মানবকল্যাণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যৌথভাবে তাঁর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।
সম্মাননা গ্রহণ শেষে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন,
“এই সম্মাননা শুধু আমার নয়, বরং বাংলাদেশের শিক্ষা ও মানবিক উন্নয়নের জন্য কাজ করা প্রত্যেক নিবেদিত মানুষের প্রেরণার প্রতীক। প্রবাসে থেকেও দেশ ও জাতির জন্য কাজ করার অঙ্গীকার আজ আরও দৃঢ় হলো।”
তিনি আরও বলেন,
“বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক. দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার, সংস্কৃতি ও ঐক্যের প্রতীক হয়ে আছে। এই সংগঠনের অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন, নৃত্য, সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা, প্রবাসী তরুণদের অংশগ্রহণ এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন ছিল অন্যতম আকর্ষণ।
আয়োজকদের মতে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্য ও জাতীয় চেতনা পুনঃজাগরণের লক্ষ্যে আগামী দিনগুলোতে আরও বৃহত্তর পরিসরে কাজ করবে বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—
ড. মো. মনিরুল ইসলাম, কবি ও সাংবাদিক আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়, সাংস্কৃতিক সংগঠক হাসিনা হক, ব্যবসায়ী মো. হুমায়ুন কবির, নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের প্রতিনিধি জন স্মিথসহ অনেকে।
সবশেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে সকল অতিথি ও প্রবাসীদের ধন্যবাদ জানানো হয় এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধি, প্রবাসী ঐক্য ও শান্তির জন্য বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
মোঃ শাহজাহান বাশার