ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে অসহায়দের ভরসা 'পাগলা হোটেল'

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 9, 2025 ইং
কুড়িগ্রামের উলিপুরে অসহায়দের ভরসা 'পাগলা হোটেল' ছবির ক্যাপশন: কুড়িগ্রামের উলিপুরে অসহায়দের ভরসা 'পাগলা হোটেল'
ad728
কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:-


কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পূর্ব দিকে হাতিয়া ইউনিয়নের গাজীপুর বাজারে অবস্থিত ছোট একটি হোটেল। এটি স্থানীয়দের কাছে পাগলা হোটেল নামে পরিচিত। যদিও নামটা শুনে অনেকের মনে হতে পারে এখানে কোনো পাগলামি রয়েছে। বাস্তবে এটি একটি অনন্য মানবিক উদাহরণ। বাইরের চেহারা সাধারণ হলেও এর ভেতরে রয়েছে অসীম ভালোবাসা ও সহানুভূতি।

শুক্রবার দুপুরে সরেজমিন পাগলা হোটেলে গিয়ে দেখা যায়, রনজু মিয়া নিজেই তাদের জন্য খাবার প্রস্তুত করে পরিবেশন করছেন। পাগলা হোটেল মালিক মোঃ রনজু মিয়া কুড়িগ্রাম জেলার উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের নয়াগ্রাম টসাপাড়া এলাকার নজির হোসেনের ছেলে। রনজু মিয়া ছোটবেলা থেকেই অন্যদের কষ্টে ভোগার দৃশ্য দেখে তার মধ্যে মানবিক অনুভূতি জাগ্রত হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে মানসিক ভারসাম্যহীন ও অসহায় মানুষদের প্রতি তার এক সহানুভূতি ছিল। নিজের ছোট্ট খাবারের হোটেলটি খুলে রনজু শুরু করেন এক দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ। 

এখানে মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ বিনামূল্যে খাবার পাবেন। এই উদ্যোগটি ধীরে ধীরে এলাকাবাসীর মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং তাদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে পাগলা হোটেল নামটি। আজ এটি শুধু একটি খাবারের দোকান নয়, বরং সেখানকার প্রতিটি খাবারের টুকরা হয়ে ওঠে এক টুকরা মানবতা। প্রায় এক বছর ধরে প্রতি শুক্রবার সকাল থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই হোটেলে ফ্রি খাবারের ব্যবস্থা থাকে। আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ এখানে আসেন। 

এই মহৎ উদ্যেগের বিষয়ে স্থানীয় ডাল ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ বলেন, যেখানে সবাই নিজেদের স্বার্থের পেছনে ছুটছে, সেখানে মোঃ রনজু মিয়ার এই উদ্যোগ আমাদের মনে মানবিকতার উজ্জ্বল আলো জ্বালিয়েছে। তার এই অসাধারণ উদ্যোগ শুধু খাবার নয়, শিখিয়েছে মানুষকে সহানুভূতির প্রকৃত অর্থ। 

মোঃ রনজু মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, মানুষকে ভালোবাসার মাধ্যমেই জীবনের আসল শান্তি নিহিত রয়েছে। তার মতে সমাজের বঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। 

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শায়খুল ইসলাম বলেন, পাগলা হোটেল শুধু খাবার নয়, মানুষ সেখানে অনুভব করে এক অবর্ণনীয় ভালোবাসা ও সহানুভূতির ছোঁয়া। রনজু মিয়ার এই মানবিক উদ্যোগ সমাজের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা ও দ্বায়বদ্ধতার এক চমৎকার উদাহরণ। এই উদ্যোগ এক নতুন আলোর পথ দেখাচ্ছে, যেখানে মানুষের জন্য মানবতা এখনও অটুট রয়েছে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : মাজহারুল ইসলাম শিপন

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে রোগীদের হেনস্থাকারী দালাল চক্রের গ্র

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে রোগীদের হেনস্থাকারী দালাল চক্রের গ্র