দুস্থ-অসহায় তালিকায় সচ্ছল পরিবারের নারীদের নাম।
সোহেল রানা, কুড়িগ্রাম:
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় দুস্থ ও অসহায় নারীদের জন্য সরকারি ভিজিবিল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কার্ডের তালিকায় প্রভাবশালী ও সচ্ছল পরিবারের নারীদের নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রকৃত অসহায়রা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে প্রায় ৩ হাজার ২০০ দরিদ্র নারীকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়। দুই বছর ছয় মাস মেয়াদি এই কর্মসূচির আওতায় তালিকাভুক্ত নারীরা প্রতি মাসে বিনামূল্যে ৩০ কেজি চাল এবং মেয়াদান্তে সঞ্চয়ের অর্থ পাবেন। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সমন্বয়ে সম্প্রতি তালিকা তৈরির কাজ শেষ হয়।
তবে রাজারহাট ইউনিয়নে তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ,প্রকৃত দুস্থদের বাদ দিয়ে সচ্ছল পরিবারের নারীদের নাম তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে রাজারহাট সদরের দেবিচরণ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়,সুপারি ব্যবসায়ী নুর আমিনের পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট পাকা বাড়ি,বাগান ও জমি থাকা সত্ত্বেও তাঁর স্ত্রী লাজিনা বেগমের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। একই গ্রামের সম্পদশালী তিন ভাই—আল-আমিন,তারামিন ও নুর আমিনের স্ত্রীদের নামও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য শহীদের নিকটাত্মীয় হওয়ায় তাদের এই সুবিধা মেলে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি শহীদের মেয়ে শিরিনা খাতুনের নামও তালিকায় যুক্ত হয়েছিল,যদিও তিনি দুই বছর আগে রংপুরে বিয়ে করেছেন।
এছাড়া সুন্দরগ্রাম পুটিকাটা গ্রামের সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী সেকেন্দার আলীর স্ত্রী মল্লিকা বেগম,গরুর খামারি আনিছুর রহমানের স্ত্রী কোহিনুর,তাঁর ভাই আশরাফ আলীর স্ত্রী জেসমিন বেগমের নামও তালিকায় পাওয়া গেছে। দেবিচরণ গ্রামের ছোবহান আলীর মেয়ে সাজেদা আক্তারের নাম বাবার পরিচয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে,যদিও তাঁর রয়েছে পাকা ভবন ও চাষাবাদের জমি।
স্থানীয় দরিদ্র নারীরা অভিযোগ করে বলেন, তাঁরা প্রকৃত সুবিধাভোগী হলেও তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। দেবিচরণ গ্রামের বেলী বেগম ও শাপলা বেগম বলেন,হামার চাইতে গরিব এই গ্রামোত আর নাই। হামরায় আবেদন করি কার্ড পাই নাই। কার্ড হইছে বড়লোক নুর আমিন আর আলামিনের বউয়ের নামে।
অভিযুক্তদের মধ্যে তারামিন দাবি করেন, জমিজমা না থাকায় স্ত্রীর নামে কার্ড করিয়েছেন। নজরুল ইসলাম নামের আরেক অভিযুক্ত বলেন,ইউপি সদস্য শহীদ তাঁর মামাতো ভাই হওয়ায় তিনি তালিকায় নাম তুলেছেন।
ইউপি সদস্য শহীদ হোসেন বলেন,তিনি কেবল দু’জনের নাম দিয়েছিলেন। তাঁর মেয়ের নাম বাতিল হয়েছে। তবে অন্যদের নাম কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তা তাঁর জানা নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জয়ন্তী রানীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আল ইমরান বলেন,অভিযোগ পেলে তদন্ত করে সচ্ছল পরিবারের নাম তালিকা থেকে বাতিল করা হবে।
মোঃ মনিরুজ্জামান