ঢাকা | বঙ্গাব্দ

দুর্নীতির আখড়াঃ ঢাকা পল্লী বিদ্যুত সমিতি-৪ (পর্ব-১)

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 10, 2025 ইং
দুর্নীতির আখড়াঃ ঢাকা পল্লী বিদ্যুত সমিতি-৪ (পর্ব-১) ছবির ক্যাপশন: দুর্নীতির আখড়াঃ ঢাকা পল্লী বিদ্যুত সমিতি-৪
ad728
 নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

সংযোগ নেই তবুও বিল ওঠে মিটারে যার। নিম্নমানের মিটার ও যন্ত্রপাতি দিয়ে চলছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গুলো, ভোগান্তি হচ্ছে সাধারণ জনগণের। 

কর্মকর্তা কর্মচারীর দুর্নীতি ও দালাল চক্র এবং ঘুষ বাণিজ্য  চলছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে। পিয়ন থেকে শুরু করে জোনাল ম্যানেজার থেকে কম্পিউটার অপারেটর; প্রতি স্তরেই রয়েছে দুর্নীতির আখড়া।নানা অজুহাতে কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় না।  

দেখা যাচ্ছে মিটারে কোন সংযোগ নেই তবুও মিটারে পালস দিচ্ছে। এর মানে মিটারে বিল উঠছে। অন্যদিকে এমনটাও দেখা গেছে যে নতুন মিটার যেটা কিনা এখন পর্যন্ত প্যাকেট থেকেই বের করা হয়নি ওটাতেও পালস হচ্ছে এবং ইউনিট চলছে। এতে করে গ্রাহকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তারা ২০০ টাকা খরচ করে, মাসে ১০০০ বা ১২০০ টাকা বিল দেওয়া লাগছে। 
সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তির শেষ কোথায়?
অনেক গ্রাহক আমাদের জানিয়েছে তাদের বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য  অনলাইনে আবেদন করার পরও দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়। পল্লী বিদ্যুতের দালাল কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন কর্মচারীর দারস্ত হতে হয় দিতে হয় মোটা অংকের টাকা তবেই মিলে বিদ্যুৎ সংযোগ। সরকারি ধার্য ফি ব্যতীত তাদের দিতে হয় দশ গুণ বেশি টাকা তবেই তারা বিদ্যুৎ সংযোগ পায়। 

★ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৪ 

১/ অর্পনা সরকার মৌ আব্দুল্লাহপুর জোনাল অফিসে কম্পিউটার অপারেটর পদে কর্মরত। তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। অর্পনা সরকার মৌ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বসেই সংযোগের আবেদন করে দেন, যা তার করার কথা নয়। অভিযোগ আছে টাকার বিনিময়ে সে এই কাজ করে। শুধু তাই নয় অর্পনা সংযোগ দেওয়ার জন্য হোয়াটসঅ্যাপে তালিকাও পাঠায়। 

এইসব বিষয় নিয়ে অর্পনাকে গণমাধ্যম কর্মীরা প্রশ্ন করলে তাদের উপর ক্ষিপ্ত হন এবং নির্মম আচরণ করে। গ্রাহকের মেমোতে পাওয়া যায় অর্পনার  হাতের লেখা, যা অর্পনা পূরণ করেছে। কিন্তু দোকান থেকে আনা মাল অর্পনা কেন পূরণ করবে সেই মালের মূল্য নির্ধারণ তো দোকানদার করবে। এ বিষয় নিয়ে দোকানদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করায় সে জানায়, তার অজান্তে ভুয়া ক্যাশ মেমো তৈরি  করেছে। এ বিষয় দোকানদার কিছুই জানে না। এমনটা তথ্য দিয়েছে গণমাধ্যমকে রিকিকা ইলেকট্রনিক্স এর মালিক মোঃ লিমন। 
সংযোগ দেওয়ার নামে মোটা অংকের টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগও আছে অর্পনার বিরুদ্ধে। 

অর্পনার সম্পত্তি সমূহঃ
জিনজিরা মালোপাড়া এলাকার একটি ফ্ল্যাটের মালিক। এছাড়া কেরানীগঞ্জে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সহায়-সম্পত্তির মালিক তিনি ও তার পরিবার সবই সম্ভব হয়েছে পল্লী বিদ্যুতে চাকরির ফলে। 

অন্যদিকে আরো অনেক কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে এর মধ্যে অফিস সহায়ক এবং ম্যানেজারও রয়েছে। 
 
★খালেদুল ইসলাম, ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৪ এর জেনারেল ম্যানেজার। এর আগে তিনি ছিলেন ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন অভিযোগ। এর মধ্যে টাকার বিনিময় বিদ্যুৎ সংযোগ, লাইন নির্মাণের দুর্নীতি, ঠিকাদারদের বিল থেকে কমিশন এসব বিষয়ে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে সরকারি গাড়ি তার পরিবারের লোকজন ব্যবহার করে,  ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাতায়াতে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করা হয়, তার একটি গাড়ি বাসায় ব্যবহার করা হয়। 
জেনারেল ম্যানেজারের সহযোগী হিসেবে কাজ করে অফিস সহায়ক ইব্রাহিম, লাইনম্যান দীপরাজ এবং এজিএম মোশারফ হোসেন তার ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করেন। অন্যদিকে গণমাধ্যম কর্মীরা সংবাদ প্রকাশ করতে চাইলে তাদের ঘুষ দিতে চায় এবং বলে যাতে করে গণমাধ্যম কর্মীরা সংবাদ প্রচার না করে। 

★পল্লী বিদ্যুতের দুর্নীতি নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ডে গণমাধ্যম কর্মীরা গেলে এ নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে কোন কথা বলতে চান না তারা। পল্লী বিদ্যুতে নিয়োগ এর ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি এবং টেন্ডার  সিন্ডিকেট এরকম আরো অনেক অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন আছে পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ড এর কাছে। 
(চলমান)

নিউজটি পোস্ট করেছেন : মিম

কমেন্ট বক্স
চিলমারীতে "পবিত্র কুরআন শরীফ অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মি

চিলমারীতে "পবিত্র কুরআন শরীফ অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মি