ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.): শিশুদের প্রতি রাসূল (সা.) এর অফুরন্ত ভালোবাসা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 6, 2025 ইং
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.): শিশুদের প্রতি রাসূল (সা.) এর অফুরন্ত ভালোবাসা ছবির ক্যাপশন: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.): শিশুদের প্রতি রাসূল (সা.) এর অফুরন্ত ভালোবাসা
ad728

মোঃ শাহজাহান বাশার ,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: 

১২ই রবিউল আউয়াল, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত, শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন এ দিনে। তাঁর আগমন শুধু মানবজাতির জন্য মুক্তির বার্তাই বয়ে আনেনি, বরং শিশুমমতা, মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও ভালোবাসার এমন এক শিক্ষা দিয়েছেন যা যুগে যুগে সর্বজনীন নির্দেশনা হয়ে আছে।

আধুনিক পৃথিবীতে শিশুরা এখনও নিরাপদ নয়। কখনও রাজনৈতিক সংঘাতের শিকার, কখনও সাম্রাজ্যবাদী হত্যা-গুমের বলি হচ্ছে তারা। ফিলিস্তিন সীমান্তে আজও রক্ত ঝরছে শিশুদের, আফগানিস্তান, মিয়ানমারসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে অবুঝ শিশুদের কণ্ঠ স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই বাস্তবতা প্রমাণ করে, শিশুদের অধিকার আজও হুমকির মুখে।

তবে ইতিহাসে এক অন্ধকার যুগ ভেদ করে আলো ছড়িয়ে দিয়েছিলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নয়, শিশু-কিশোরদের অধিকার রক্ষায়ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। নবীজী (সা.) এর শিশুদের প্রতি ভালোবাসা আজও মানবতার জন্য আদর্শ হয়ে আছে।

শিশুর গুরুত্ব সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন—
“না- আমি এ নগরীর নামে শপথ করছি, যখন তুমি এ নগরীতে অবস্থান করছ, এবং শপথ করছি জন্মদাতার নামে ও তার দ্বারা জন্মপ্রাপ্ত সন্তানের নামে।” (সূরা আল-বালাদ: ১-৩)

হযরত যাকারিয়া (আ.)-কে সুসন্তান দানের সুসংবাদ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন—
“হে যাকারিয়া! আমি তোমাকে সুসংবাদ দিচ্ছি এক পুত্র সন্তানের, যার নাম হবে ইয়াহইয়া।” (সূরা মারইয়াম: ৭)

এছাড়া সূরা আল ফুরকান (আয়াত ৭৪)-এ সন্তানকে চোখের প্রশান্তি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) হাদিসে বলেছেন—
“শিশুদের স্নেহ কর, তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন কর, এবং তাদের সাথে কোনো ওয়াদা করলে তা পূরণ কর। কেননা তাদের দৃষ্টিতে তোমরাই তাদের রিজিকদাতা।”

সন্তানের জন্মের পর আজান দেয়া, আকীকা ও নাম রাখা, তাহনীক, খাতনা, যত্ন, মমতা, নৈতিক শিক্ষা প্রদান—প্রতিটি ক্ষেত্রে নবীজীর নির্দেশনা স্পষ্ট। সন্তানকে সদাচার শিক্ষা দেওয়া দান-খয়রাতের চেয়েও উত্তম বলেছেন তিনি।

বিশ্বজুড়ে যখন শিশু অধিকার হুমকির মুখে, তখন নবীজীর শিক্ষা আমাদের নতুন করে পথ দেখায়। মানবতার জন্য তাঁর শিশুপ্রেম ও দিকনির্দেশনা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর আদর্শ অনুসারে শিশুদের ভালোবাসা ও সুরক্ষা দেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : মোঃ শাহজাহান বাশার

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
হাসপাতালে অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ আসাদুজ্জামানএর ২০টি সিলিং ফ্

হাসপাতালে অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ আসাদুজ্জামানএর ২০টি সিলিং ফ্