ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জাকসু নির্বাচন, বেলা বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে ভোটারদের উপস্থিতি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 11, 2025 ইং
জাকসু নির্বাচন, বেলা বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে ভোটারদের উপস্থিতি ছবির ক্যাপশন: জাকসু নির্বাচন, বেলা বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে ভোটারদের উপস্থিতি
ad728
মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

দীর্ঘ ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি আবাসিক হলে ২২৪টি বুথে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলবে টানা বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

সকালে ভোটার উপস্থিতি কম, পরে ভিড় বাড়তে শুরু

নির্বাচনের প্রথম দিকে অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শহীদ রফিক-জব্বার হলে ৬৫০ জন ভোটারের মধ্যে মাত্র ১৩ জন ভোট দেন। এ কেন্দ্রের রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান ভূঞা জানান, ব্যালট পেপারে স্বাক্ষর নিতে দেরি হওয়ায় ভোটগ্রহণ কিছুটা ধীরগতিতে শুরু হয়।

একই চিত্র দেখা যায় শহীদ সালাম-বরকত হলে। সেখানে ২৯৯ জন ভোটারের মধ্যে প্রথম এক ঘণ্টায় ভোট পড়েছে মাত্র ২৩টি। কেন্দ্রটির রিটার্নিং কর্মকর্তা এস এম মওদুদ আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “ধীরে ধীরে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়বে, এবং আমরা আশা করছি নির্বাচন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশেই সম্পন্ন হবে।”

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। বিভিন্ন হলে ভোটকেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীদের ভিড় বাড়তে শুরু করে।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৮৯৭। ২৫টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭৮ জন প্রার্থী। নির্বাচন পরিচালনার জন্য দায়িত্ব পালন করছেন ৬৭ জন পোলিং অফিসার (শিক্ষক) এবং সমসংখ্যক সহকারী পোলিং অফিসার (কর্মকর্তা)।

ভোটগ্রহণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে বিশেষ ওএমআর মেশিনে গণনা করা হবে এবং সেখানেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ভোটাররা কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট ৪০টি ব্যালটে ভোট দিচ্ছেন।

জাকসুর মোট প্রার্থীর মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ নারী, আর ৭৫ শতাংশ পুরুষ। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে কোনো নারী প্রার্থী নেই। জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ১৫ জনের মধ্যে দুজন নারী। সবগুলো হল সংসদ মিলিয়ে মোট প্রার্থীর ২৪.৪ শতাংশ ছাত্রী। তবে মেয়েদের পাঁচটি হলে ১৫টি পদে কোনো প্রার্থী পাওয়া যায়নি।

এবারের নির্বাচনে বাম, ছাত্রদল, শিবির, স্বতন্ত্রসহ মোট আটটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।ছাত্রদল: ভিপি পদে শেখ সাদী হাসান, জিএস পদে তানজিলা হোসেন বৈশাখী।বাগাছাসের ‘শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম’: ভিপি পদে আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল, জিএস পদে আবু তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’: ভিপি পদে আরিফুল্লাহ আদিব, জিএস পদে মাজহারুল ইসলাম। স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’: ভিপি পদে আব্দুর রশিদ জিতু, জিএস পদে মো. শাকিল আলী।

‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেল: জিএস পদে শরণ এহসান, এজিএস (পুরুষ) পদে নুর এ তামীম স্রোত, এজিএস (নারী) পদে ফারিয়া জামান নিকি। তবে এ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী অমর্ত্য রায় জন আদালতের রায়ে প্রার্থীতা বাতিল করেছেন।

ছাত্র ইউনিয়ন-ছাত্রফ্রন্টের ‘সংশপ্তক পর্ষদ’: জিএস পদে জাহিদুল ইসলাম ঈমন, এজিএস (নারী) পদে সোহাগী সামিয়া জান্নাতুল ফেরদৌস।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আয়োজিত এই নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও ধীরে ধীরে ভোটকেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়তে শুরু করেছে। অনেকে আশা করছেন, দীর্ঘ বিরতির পর এই নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : মোঃ শাহজাহান বাশার

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সরিষাবাড়ীতে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে জেলা বিএনপির সভ

সরিষাবাড়ীতে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে জেলা বিএনপির সভ