
মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
দেশের বাজারে হঠাৎ করে ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ৯ টাকা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এই সিদ্ধান্ত কোনো ধরনের আইনগত ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন,
“তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকার কিছুই জানতো না। আমরা আধা ঘণ্টা আগে বিষয়টি জানতে পেরেছি। কোম্পানিগুলো সমন্বিতভাবে যে কাজটি করেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
সারা দেশে খুচরা বাজারে বিনা ঘোষণা ভোজ্যতেলের লিটারপ্রতি ৯ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন যে, দাম বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয় বা ট্যারিফ কমিশনের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে সরকার এই বক্তব্য সরাসরি অস্বীকার করেছে।
দাম বাড়ানোর আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে বাণিজ্য উপদেষ্টা পরিষ্কারভাবে বলেন—
“এটার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। আমরা আলোচনা করে কর্মপদ্ধতি ঠিক করব।”
গতকাল (মঙ্গলবার) সরকার টিসিবির জন্য ৫০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল এবং ১ কোটি লিটার রাইস ব্রান তেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে।
ব্যবসায়ীরা সরকারকে যে দামে তেল দিয়েছেন, তার তুলনায় বাজারে এখন ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন—
“গতকালই আমরা তাদের কাছ থেকে কম দামে তেল কিনেছি। তবু আজ বাজারে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছে। তার যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।
সরকার কি ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,
“নিয়ন্ত্রণ আছে কি নেই সেটা আমাদের পদক্ষেপ দেখলেই বুঝতে পারবেন।”
ব্যবসায়ীরা কি সরকারের চেয়েও বেশি ক্ষমতাধর—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
“এ ধরনের উত্তেজক ও ধারণা প্রসূত প্রশ্নের তো জবাব নেই।”
যদি দাম বাড়ানো আইন লঙ্ঘন করে, তাহলে কি দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এ বিষয়ে তিনি বলেন,
“নিশ্চয়ই নেব। কেন নেব না? আইনগতভাবে যে ব্যবস্থাগুলো আছে সবই নেব।”
বাণিজ্য সচিবও স্পষ্ট করে বলেছেন যে, ব্যবসায়ীদের দাবি সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই—“আমরা তাদের ওই কথা একনলেজ করি না।”
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন,
“যদি কোনো যৌক্তিক কারণ থাকে, আমরা আনন্দের সঙ্গেই আলোচনা করব। আমরা সরবরাহ ব্যবস্থা গতিশীল রাখতে চাই। বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়।”
ভোজ্যতেলের দাম হঠাৎ বাড়ানো নিয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, আইন লঙ্ঘন হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যবসায়ীদের একতরফা সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না।
বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সরকারি অনুমোদন ছাড়া দাম বাড়ানোর এই ঘটনা দেশের বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।