প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 11, 2025 ইং
ইসলামাবাদে জেলা আদালতের বাইরে আ'ত্ম'ঘা'তী বি'স্ফো'রণে কমপক্ষে ১২ জন নি'হত, ২৭ আ'হত

মোঃ শাহজাহান বাশার
সময়: দুপুর ১২:৩৯ (স্থানীয়)
স্থান: ইসলামাবাদ, পাকিস্তান
ইসলামাবাদের জেলা ও দায়রা আদালতের বাইরে মঙ্গলবার দুপুরে ঘটে যাওয়া আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছে—এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি। বিস্ফোরণ ঘটার সময় আদালত কার্যক্রম চলছিল এবং বহু দর্শনার্থী ও আইনজীবী আদালত চত্বরে ছিলেন।
মোহসিন নাকভি সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে হামলাকারী প্রথমে আদালতে প্রবেশের চেষ্টা করছিল; অনুমোদন না পেয়ে শেষপর্যন্ত একটি পুলিশ গাড়িকে লক্ষ্য করে নিজের সঙ্গে থাকা বিস্ফোরক বিস্ফোরিত করে। তিনি আরও জানান, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত আছে এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সনাক্ত করা হবে। “যেই জড়িত থাকুক না কেন, এমনকি যদি সে অন্য কোনো দেশের নাগরিকও হয়, কাউকে ক্ষমা করা হবে না,” মন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যে বলা হয়েছে।
পাকিস্তানের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, বিস্ফোরণের পর ১২টি মৃতদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং সেগুলো মর্গে পাঠানো হচ্ছে; সাথে আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে আহতদের তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা চলছে।
আইনজীবীদের প্রতিনিধিরা জানান, নিহতদের মধ্যে কয়েকজন আইনজীবী আছেন—তারা বিস্ফোরণের সময় তাদের মক্কেলদের সঙ্গে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন। বিস্ফোরণের শুরুর মুহূর্তে অনেকেই অভিভূত হয়ে ছুটে গেছেন; সেখানে রক্তাক্ত অবস্থায় অনেকের ছবি এবং ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত প্রাথমিক নিদর্শন ও নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পরে হামলাকারীর শরীরের অংশও পাওয়া গেছে—যার কারণে এটি আত্মঘাতী হামলা বলে প্রাথমিকভাবে ধরা হচ্ছে। পুলিশ ও বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রমাণ সংগ্রহ করছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ডেটা ও রাজপথ জিজ্ঞাসাবাদ করে দ্রুত তদন্ত চালাচ্ছে।
সিকিউরিটি ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া
ইসলামাবাদ পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থা ঘটনার পর প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থায় আছে—অতিরিক্ত নিরাপত্তা বলাবর্ভূত করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও আদালত প্রাঙ্গণ ঘিরে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে যারা ই-ট্যাগ ছাড়া যানবাহন থাকেন তারা ইসলামাবাদে প্রবেশ করতে পারবে না—এধরনের নিয়মগত পদক্ষেপ “তাত্ক্ষণিক সিকিউরিটি ব্যবস্থা” বাড়াতে নেওয়া হয়েছে।
এই মুহূর্তে কোনো জঙ্গি গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করে নি। পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি কার্যক্রমের পুনরুত্থান নিয়ে সতর্কতা রয়েছে; তাই তদন্তকারীরা সব দিক থেকে ঘটনাটি যাচাই করছে—যোগ্যতা, সম্ভাব্য সমর্থনকারী এবং স্থানীয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য হাত রয়েছে কিনা সেটা দেখভাল করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজধানীর অন্তর্গত কোনো আদালত বা আইনি প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে হামলা দেশের আইন-শৃঙ্খলা সূচক ও বিচার ব্যবস্থার উপর সরাসরি আঘাত—এধরনের আক্রমণ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতির পুনর্বিবেচনার কারণ হতে পারে।
পাকিস্তানে গত কয়েক বছরে মাঝে মাঝে বড়সড় সন্ত্রাসী হামলা ঘটেছে; কয়েকটি অঞ্চলে বিশেষত উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত এলাকায় জঙ্গিগোষ্ঠীর সক্রিয়তা বেড়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দা বিভাগ এসব হামলার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, কিন্তু রাজধানীর হাই-প্রোফাইল লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হলে তা জাতীয় বিতর্ক ও নিরাপত্তা নীতির উপর প্রভাব ফেলে।
স্থানীয় নাগরিকেরা ঘটনায় আতঙ্কিত; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্রতর্কতা ও দুঃখ প্রকাশ দেখা যায়। আদালত ও বিচারপ্রতিষ্ঠানসমূহে ছায়া চিকিৎসা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার দাবি উঠতে পারে। এছাড়া প্রতিবেশী দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়—যদি প্রয়োজন হয়—পুলিশ ও গোয়েন্দা সহযোগিতা বাড়াতে পারে।
কর্তৃপক্ষকে দ্রুততর তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দিতে হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁক কোথায় তা নির্ণয় করে ভবিষ্যতে এধরনের আক্রমণ প্রতিরোধে গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এই রিপোর্টটি আপডেট হতে পারে—তদন্ত ও অফিসিয়াল বিবৃতি আসার সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত ও পরিমার্জিত তথ্য যোগ করা হবে। (উপরের প্রতিবেদনে ব্যবহারকৃত প্রধান সূত্র: AP, Reuters এবং স্থানীয় প্রকাশনা সংবাদ)
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারী : ESOMOY