মোঃসুজন আহমেদ
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
সিরাজগন্জের সলঙ্গা থানা এলাকার চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস গরু ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ শেখ (খতিব) হত্যা রহস্যের সফল উদ্ঘাটন করেছে সিরাজগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত চার আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করানো হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশ জানায়, জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ বিশেষ করে পুলিশ সুপার মোঃ ফারুক হোসেনের তত্ত্বাবধানে চাঞ্চল্যকর মামলাটির তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাঁর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান ও জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি আবু সিদ্দিকের তত্ত্বাবধানে একটি চৌকস টিম তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করে।
ঘটনার বিবরণ
নিহত আব্দুল লতিফ শেখ (৪০) সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার চর ফরিদপুর এলাকার গরু ব্যবসায়ী। গত ৯ নভেম্বর বাজার করে বাড়িতে ফেরার কথা থাকলেও তিনি নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে ১২ নভেম্বর সকালে ফুলজোর নদীর খাড়াঘাট এলাকায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় হাত-পা বাঁধা ও কোমরে ইট বাঁধা একটি লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরিবারের সদস্যরা এসে লাশটি আব্দুল লতিফ বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়।
অভিযানে গ্রেফতার
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ নভেম্বর কয়েক দফা অভিযানে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন—
মাসুদ রানা (৩৮)
ফরিদুল ইসলাম (৪২)
শাহিনুর খাতুন (৪০)
রফিকুল ইসলাম (৪০)
হত্যার নেপথ্য কারণ ও স্বীকারোক্তি
জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানান, টাকা লেনদেনসহ পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে তারা আব্দুল লতিফকে হত্যার পরিকল্পনা করে। নিহতের চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী আসামি শাহিনুরের সাথে খতিবের পূর্ব পরিচয় ও সম্পর্ক ছিল। সে সুযোগে শাহিনুর পরিকল্পনামাফিক তাকে নদীর ঘাটে ডেকে আনে এবং ঘুমের ওষুধ মেশানো স্পিড পানীয় খেতে দেয়। কিছুক্ষণ পর তিনি অচেতন হয়ে পড়লে অন্যান্য আসামিরা চাদর দিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে। পরে হাত-পায়ে ইট বেঁধে লাশ নদীতে ফেলে দেয়।
গ্রেফতারকৃত চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে ডিবি পুলিশ নিশ্চিত করেছে।