কেন্দুয়ায় ফ্যাসিস্ট শৃঙ্খল ভাঙার গান : হাবিবুর রহমান কাঞ্চনের অগ্নিসাক্ষর কারা নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের সংবর্ধনা।
মোঃ মাজাহারুল ইসলাম সিপন, নেত্রকোনা।
কেন্দুয়ার আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছিল অদৃশ্য এক রঙিন ধ্বনি যেন নিপীড়নের কালো মেঘ ভেদ করে নতুন সূর্যের ডাক। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, বেখৈরহাটী বাজারে ফুটে উঠল ইতিহাসের এক অগ্নিময় মুহূর্ত। বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান কাঞ্চনের হৃদয়উদ্ভাসী উদ্যোগে ফ্যাসিস্ট সরকারের মিথ্যা হামলা মামলায় কারা নির্যাতিত ১৫ জন ত্যাগী নেতাকে বরণ করল ফুলের মালা, অশ্রু, আর ভালোবাসার ঢেউ।
সভাপতিত্বে ছিলেন দলপা ইউনিয়ন বিএনপি’র উপদেষ্টা, প্রবীণ সংগ্রামী আলহাজ উদ্দিন মেম্বার। সঞ্চালনায় ছিলেন উদ্দীপ্ত যুবদল নেতা রায়হান আহমেদ রনি। চারপাশে যেন জমাট বাঁধল এক অদৃশ্য আগুন ,যেখানে কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দাঁড়িয়ে ছিলেন স্বপ্নের পতাকা হাতে।
কারা নির্যাতিত নেতাদের কণ্ঠে ভেসে এল রক্তমাখা শপথ:
“আমরা ফ্যাসিস্ট সরকার বিদায় করেছি, এখন জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে এনে গণমানুষের সরকার প্রতিষ্ঠা করব। বিএনপি দেশকে ফেরাবে আলোর পথে।”
প্রধান অতিথি হিসেবে কেন্দুয়া বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি এমদাদুল হক দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করলেন:
“দেশনায়ক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র টিকবে না। আগামী জাতীয় নির্বাচনে জনগণের ভোটে বিএনপি আবারও গড়বে জনগণের সরকার।”
সংবর্ধিত অগ্নিসেনারা
ফুলে ফুলে বরণ করা হয়েছিল যাঁদের—
সোহরাব হোসেন মাস্টার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা কৃষকদল
অলি উল্লাহ মন্ডল, যুবদল নেতা
টিটন মিয়া, ইউনিয়ন বিএনপি সদস্য
নাদিমুল ইসলাম মন্ডল, বিএনপি কর্মী
সিদ্দিকুর রহমান, যুবদল আহ্বায়ক
কামরুল ইসলাম, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক, কেন্দুয়া বিএনপি
মোঃ এমদাদুল হক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, তাঁতীদল
আল আমিন, সভাপতি, শ্রমিকদল
ফেরদৌস মিয়া, বিএনপি সদস্য
এরশাদ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক, মৎস্যজীবী দল
তোফাজ্জল হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দল
রাকিব রানা, বিএনপি নেতা
যুবদল নেতা রুবেল মিয়া, হাবলু মিয়া, মস্তু মিয়া প্রমুখ।
তাঁরা প্রত্যেকে ছিলেন ইতিহাসের মর্মভেদী সুর যাঁদের বুকে আঘাত হেনেছিল শাসকের নির্দয় হাত, অথচ যাঁদের চোখে আজও দীপ্তি ঝলসে ওঠে ভবিষ্যতের স্বাধীন ভোরের।
কাঞ্চনের আলোকিত স্বপ্ন :
সংবর্ধনার স্থপতি, জনপ্রিয় নেতা, দলপা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রত্যাশী হাবিবুর রহমান কাঞ্চন তিনি শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি এক আলোকিত মানুষ। শৈশব থেকে সেবাকে তিনি করেছেন জীবনের মন্ত্র।
কাঞ্চন দৃঢ় প্রত্যয়ে উচ্চারণ করলেন:
“আমরা ৩১ দফা বাস্তবায়ন করব, ঐক্যবদ্ধ হব। বিজয় ছিনিয়ে এনে দেশনায়ক তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ উঠবে বিশ্বের শিখরে।”
মানুষের হৃদয়ে প্রশংসার জোয়ার
এই ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা শুধু ফুলের নয়, এটি ছিল হৃদয়ের উন্মোচন, সময়ের স্রোতে খোদাই হওয়া অমর গান। কেন্দুয়া থেকে নেত্রকোনা, আর নেত্রকোনা থেকে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রশংসার ঢেউ। গণমানুষ বলছে ,এ এক নতুন সূর্যোদয়, যেখানে অন্ধকারের শৃঙ্খল ছিঁড়ে মানুষ হাঁটবে মুক্তির পথে।
কেন্দুয়ার সেই সন্ধ্যায়, যখন বাজারের বাতাসে মিলছিল ফুলের সুবাস আর স্বাধীনতার মন্ত্র, তখন ইতিহাস আবার লিখল নতুন পংক্তি। এটি শুধু একটি সংবর্ধনা নয়, এটি ছিল সত্যের জয়গান, ত্যাগের স্নিগ্ধ উৎসব, আগামীকালের প্রতিজ্ঞা।আর এই প্রতিজ্ঞার শিরায় শিরায় প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল এক অমর শ্লোগান,
“গণমানুষ জেগেছে, ফ্যাসিস্ট শৃঙ্খল ভাঙবে; বাংলাদেশ আবারও ফিরবে আলোর শিখরে।”
মাজহারুল ইসলাম শিপন