মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য দুই আসামির বিরুদ্ধে জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় পড়া শুরু হয়েছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে রায় পাঠের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। মামলার তিন আসামির মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কামাল পলাতক রয়েছেন। গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় বছরখানেক ধরে কারাগারে রয়েছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, যিনি এই মামলার রাজসাক্ষী।
সকাল ৯টা ১০ মিনিটের পর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে মামুনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শেষবারের মতো অনেকটা মাথা নিচু করে তিনি ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় প্রবেশ করেন।
মামলার রায় ঘোষণার জন্য ১৩ নভেম্বরের দিন ধার্য করা হয়েছিল। এই মামলায় মোট ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-জেরা সম্পন্ন হয়। পরে ৯ কার্যদিন ধরে প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্সের যুক্তি-প্রতিযুক্তি অনুষ্ঠিত হয়। ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রের প্রধান আইনকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের সমাপনী বক্তব্য এবং চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনের যুক্তিখণ্ডনের পর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
যুক্তিতর্কে প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে আবেদন করে। তবে রাজসাক্ষী হওয়ায় মামলার অন্যতম আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত নেবে। আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ মামুনের খালাসের দাবিও করেন। রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা ও কামালও খালাস পাবেন বলে তার দৃঢ় বিশ্বাস।
এই মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা এবং আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র মোট ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার, যার মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকা দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠা।
মামলার ৮৪ জন সাক্ষীকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করা হয়েছিল। গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এই মামলার তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন জমা পড়ে।
মামলার রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। আইনবিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রায়ের পর দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট ও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
মোঃ শাহজাহান বাশার