ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সৈয়দপুর পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সময়মত অফিসে না আসায় ভোগান্তি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 30, 2025 ইং
সৈয়দপুর পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সময়মত অফিসে না আসায় ভোগান্তি ছবির ক্যাপশন: ফাইল ছবি
ad728



মো:জাকির হোসেন :নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও নির্বাহী কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম প্রতিদিনই নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে না আসায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে। থমকে আছে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজসহ নিত্যদিনের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও সেবামূলক কর্মকান্ড। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সময়মত অফিসে তাকে না পাওয়ায় সব ধরণের সনদপত্র প্রদানে চলছে দীর্ঘসূত্রিতা। প্রকৌশলী হওয়ায় তার অধিনের প্রকৌশল বিভাগ যেমন যথাযথভাবে চলছেনা। তেমনি তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকায় সামগ্রিকভাবে পুরো পৌরসভার নিয়মিত কার্যক্রমও চলছে ঢিলেঢালাভাবে।
অভিযোগ উঠেছে, তিনি প্রায় প্রতিদিনই অফিস সময়ের দুই-তিন ঘন্টা বিলম্বে অফিসে আসেন। আর যাওয়ার ক্ষেত্রে ঠিকই বিকেল ৫ টার মধ্যেই তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এভাবে তিনি ৮ ঘন্টার স্থলে মাত্র ৫ ঘন্টা কাজ করেন। ফলে ২-৩ ঘন্টা তার সেবা থেকে বঞ্চিত হয় সেবাগ্রহিতারা। অন্যদিকে চলমান রাস্তা সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণ কাজসহ পৌরসভার উন্নয়নমূলক সবধরণের কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এমনকি দৈনন্দিন কাজগুলোও সঠিকভাবে সম্পন্ন হচ্ছেনা। এসব ক্ষেত্রে তার ন্যুনতম নজরদারী বা তদারকি নাই। একারণে পুরো শহরজুড়ে আবর্জনার স্তুপ আর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অচলাবস্থার ফলে পাড়ায় পাড়ায় ড্রেনের পানি উপচে রাস্তাসহ বাসা-বাড়িতে জমে থাকছে দিনের পর দিন।  এতে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা আজ নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে আজ অজপাড়াগাওয়ের চেয়েও নি¤œস্তরের হয়ে পড়েছে।
বিগত প্রায় এক সপ্তাহ যাবত পর্যবেক্ষন করে দেখা যায়, প্রতিদিনই তিনি ১১ টা থেকে ১২ টার দিকে অফিসে আসেন। আর ঠিক ৫ টার পরই তিনি অফিস ত্যাগ করেন। তিনি কর্মস্থল থেকে যাওয়ার পরই তার ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ করে দেন। বিশেষ প্রয়োজনেও তাকে আর পাওয়া যায়না। রংপুরের বাড়ি থেকে সৈয়দপুরে এসে তিনি অফিস করায় এই পরিস্থিতি দাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকায় তার স্বাক্ষর ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিকত্ব সনদ, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র, হোল্ডিংয়ের নাম পরিবর্তন, ওয়ারিশান সনদ, জন্ম নিবন্ধন সনদ, নকশা অনুমোদন ইত্যাদি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাসময়ে দেওয়া সম্ভব হয়না। জরুরী ক্ষেত্রে এই সেবা প্রাপ্তিতে চরম হেনস্থা হতে হচ্ছে পৌরবাসীকে।
একটি বিশ^স্ত সূত্রের অভিযোগ অফিসে বিলম্বে আসলেও যান ঠিক সময়েই। এর মধ্যে যেটুকু সেবা দেন তাতেও তিনি বেশ গড়িমসি করেন। তার অবহেলার কারণেই শহরের প্রায় ১০টি সড়ক ও সংলগ্ন ড্রেন সংস্কার কাজ শুরু করে মেয়াদ উত্তীর্ণের ৬-৮ মাস পরও কাজ শেষ করছেনা ঠিকাদাররা। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজন দীর্ঘদিন থেকে চমর দূভোগ পোহাচ্ছে। অথচ এ ব্যাপারে একেবারেই নির্বিকার পৌর প্রকৌশল বিভাগ। বিশেষ করে নির্বাহী প্রকৌশলী বিন্দুমাত্র সচেষ্ট নয়। এর ফলে মুখ থুবড়ে পড়েছে উন্নয়ন কাজ। কিন্তু ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিজের কমিশন নিতে তিনি বেশ তৎপর। যে কারণে ওই ঠিকাদারদের কাজের ক্ষেত্রে তিনি তেমন কোন ভ্রুক্ষেপ করছেন না।
এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২ টায় তার অফিসে কথা হলে তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকেই এভাবেই আসা যাওয়া করি। এতে তো কোন সমস্যা দেখিনা। আমার যেটুকু কাজ তা ওই সময়েই সম্পন্ন করি। অফিস টাইমের বাইরে তো সেবা দেওয়ার কোন বাধ্যবাধকতা নাই। তাই আমি বাড়ি গিয়ে মোবাইল বন্ধ করে রাখি। একারণে তো আর কাজ থেমে থাকেনা। অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ যথারীতি চলছে। ঠিকাদার দেরি করলে আমাদের আর কি করার আছে। বেশি চাপাচাপি করলেতো তারা কাজই করবেনা। তখনতো আরও বেশি সমস্যা হবে। তাই কাজগুলো শেষ করার অপেক্ষায় আছি।
পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর ই আলম সিদ্দিকী বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলীকে কয়েকবার বিলম্বে অফিসে আসার ব্যাপারে বলা হলেও তিনি তা ঠিক করছেন ন্।া একারণে অবশ্য বেশ সমস্যা হচ্ছে। তবে কোন কাজ আটকে থাকছেনা। অফিস সময়েই তিনি তার কাছে থাকা কাজ সম্পন্ন করেন। রাস্তা সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণ কাজ তদারকির ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যত্যয় ঘটলেও প্রকৌশল বিভাগের অন্যান্যরা তা দেখছেন। আর নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তার দায়িত্বাধীন কাজগুলো একটু বিলম্বিত হলেও সেবাগ্রহিতারা পাচ্ছেন। আগের মতো তো আর দিনের পর দিন আটকে থাকেনা।  


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জুয়েল রানা

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আপন ভাইইয়ের হামলার শিকার পটিয়ার মৌলানা মমিনুল।

আপন ভাইইয়ের হামলার শিকার পটিয়ার মৌলানা মমিনুল।